নওগাঁর আম সারা দেশের ব্র্যান্ডিং হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে ।

সাফিউল ইসলাম রকি

কিছুদিনের মধ্যে নওগাঁর আম সারা দেশের ব্র্যান্ডিং হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, ‘নওগাঁয় বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার আম খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি। বিদেশেও এই আম রপ্তানি হয়।’

নওগাঁর সাপাহারে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে চলতি মৌসুমে গোডাউন পাড়া বাবু চৌধুরীর আমবাগানে আমপাড়া উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন কৃষকরা ধান ও গম চাষ করতেন। পরে কৃষকরা ধান চাষ ছেড়ে আম শুরু করেন। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা আম চাষে ঝুঁকে পড়েন।

‘বর্তমানে এই অঞ্চলগুলোয় প্রচুর আম চাষ হচ্ছে, যা বর্তমানে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবদান রাখছে।’

সারা দেশে সাপাহারে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘এখানে প্রায় সাড়ে চার শর মতো আমের আড়ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাপাহারে একটি ইকোনমিক জোন স্থাপনের ঘোষণা করেছেন।

‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে এই অঞ্চলে আম প্রসেসিং থেকে শুরু করে আমের জুস তৈরির কলকারখানা স্থাপনের। আমি মনে করি, এখানে ইকোনমিক জোন হলে আমচাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন।’

ওই সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল ওয়াদুদ, সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্জাহান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এটি গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর বেশি। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন।

গোপালভোগ, হিমসাগর, আম্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, মিয়াজিকিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে। এবার প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। সে অনুযায়ী ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।