রাষ্ট্রদূতেরা সীমা লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কার্যক্রমে বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্রদূতেরা যদি তাঁদের কাজের সীমারেখা অতিক্রম করেন, তাহলে সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ আজ সোমবার (৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরির বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। ছয় মাস আগে অবশ্যই একটা পর্ব গেছে। যদি কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত আবার সে ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, যেটা আমরা মনে করি যে তাদের কাজের সীমারেখা অতিক্রম করছে, তাহলে আমরা অবশ্যই তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ তবে এখন পর্যন্ত এ রকম কিছু চোখে পড়েনি বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, জাপানের রাষ্ট্রদূত গতকাল রোববার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করেন। এ সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিইসির কাছে জানতে চান।

এর আগে গত বছর ১৪ নভেম্বর জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়েও কড়া সমালোচনা করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ইতো নাওকি বলেন, ‘আমি শুনেছি, গত নির্বাচনে পুলিশের কর্মকর্তারা আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছেন। আমি অন্য কোনো দেশে এমন দৃষ্টান্তের কথা শুনিনি।’ ইতো নাওকির এমন বক্তব্যে দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দেশটির ছয় কংগ্রেসম্যানের চিঠি দেওয়াকে সরকার কীভাবে দেখছে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিঠিটা সংগ্রহ করেছি। অন্যান্য চিঠিপত্রের মতো এখানেও অসামঞ্জস্য আছে। অন্যান্য চিঠির মতো বাড়াবাড়ি আছে। তথ্যের একটা বড় ধরনের ঘাটতি আছে। কংগ্রেসম্যানদের প্রচেষ্টা দুর্বল ও সস্তা।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এদেশেও রাজনীতিবিদেরা, সংসদ সদস্যরা বিশেষ করে অন্য দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছু বলেন, অনেকে হয়তো লেখেনও। হয়তো তার বিরুদ্ধেও লেখা হয়, যেটা তিনি জানেন না। তবে, এটা নির্ভর করে সরকার প্রধান বিষয়টিকে কীভাবে নেবেন। নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের আরও চিঠি চালাচালি হতে পারে। এ রকম চিঠি অতীতেও এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে। তবে, গণমাধ্যমকে এটা যাচাই করে নিতে হবে।’