চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও সুফল মিলেনি

সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পেও সুফল মিলেনি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের বাড়িতে হাঁটুপানি

সামান্য বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম। এ সমস্যা বিরাজ করছে দুই যুগের বেশি সময় ধরে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পাঁচ বছর ধরে প্রকল্পের কাজ চলছে, ব্যয় বেড়েছে, নতুন আরও প্রকল্প যুক্ত হয়েছে; কিন্তু এত বরাদ্দ, এত কর্মযজ্ঞেও জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে ডুবে আছে চট্টগ্রাম নগরী। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। একই বছরের আগস্টে প্রকল্পটি অনুমোদের পর ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পে খাল খনন, বিদ্যমান খাল সম্প্রসারণ, ড্রেন নির্মাণ এবং নগরী থেকে সহজে ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মতে, ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, যে দুর্ভোগ থেকে চট্টগ্রাম নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, তার সুফল এখনো মিলছে না।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ এখনো ২৫ শতাংশ বাকি আছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীর চারপাশে ৩৬টি খালের মধ্যে ১৬টি খালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ শেষ হয়েছে। ৯টি খালের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হলেই এ প্রকল্পের সুফল মিলবে।

জলাবদ্ধতার বড় শিকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দার হাট এলাকায় তার বাড়িতে দুই দিন ধরে হাঁটুপানি আছে। নিজের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্পটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। তারাই ভালো বলতে পারবে, কেন জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে না। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমছে না। আমি নিজেও জলাবদ্ধতার বড় ভুক্তভোগী।