গাজায় রাতভর ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ছাড়াল ১৫০০

গাজায় রাতভর ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ছাড়াল ১৫০০।

১২টি টাওয়ারসহ ঘনবসতিপূর্ণ গাজা উপত্যকায় রাতভর ৭৫০টি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কথিত অভিযানের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অগণিত ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হচ্ছে এবং সেগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের যুদ্ধবিমান থেকে এক মিনিটের মধ্যে ১২টি টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিতে রাতব্যাপী অভিযানে বেসামরিক লোকের হতাহতের কোনো সংখ্যা জানায়নি ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পর্যন্ত গাজায় হামলা চালিয়ে দেড় হাজারের বেশি লোক হত্যা করেছে ইসরায়েল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দিনগত রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত হতাহতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান হলো ইসরায়েলের হামলায় গাজায় কমপক্ষে এক হাজার ৫৩৭ জন নিহত এবং ছয় হাজার ৬১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীরে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অপরদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলের কমপক্ষে এক হাজার ৩০০ জন এবং তিন হাজার ২০০ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ পরিসংখ্যান জানিয়েছে।

গত শনিবার (৭ অক্টোবর) কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালায় হামাস। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও পানি সরবরাহ বন্ধসহ পুরো মাত্রার অবরোধ ঘোষণা করে ইসরায়েল।

একইসঙ্গে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অংশে বিমান হামলাও করছে তারা। হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অংশ হিসেবে গাজার সীমান্তে ইসরায়েল তিন লাখ সৈন্য মোতায়েন করেছে। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের পর ইসরায়েলের এটিই সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ। তখন চার লাখ রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল।