কিশোর গ্যাং লিডার ও হত্যা মামলার আসামী নিশানের সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ,নগর যুবলীগের নেতা দাবিদার কিশোর গ্যাং লিডার ও দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলী হত্যা মামলা আসামী গোলাম রসুল নিশান মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনের পুরাটা অংশ বিএনপির এক নেতাকে দোষারোপ করে হত্যাকাণ্ড নিজেকে আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

‘টর্চার সেল’ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে না পারলেও, স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন তার টর্চার সেলের অবস্থান।

সরকারি নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচতলা। চারপাশ টিন দিয়ে ঘেরা। দেয়ালে সাঁটানো ‘নেতার’ নামে পোস্টার। এটি এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ‘টর্চার সেল’ হিসেবে। । এটি গড়ে তুলেছেন কিশোর গ্যাং নেতা গোলাম রসুল ওরফে নিশান। এলাকায় কেউ গোলাম রসুলের কথার অবাধ্য হলে তাঁকে সেখানে নিয়ে চালানো হতো নির্যাতন। বাদ যায়নি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও।

পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকায় বহিরাগত যাকে পাবে তাকে কানে গালে থাপরাবো তার এমন ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করলে এলোমেলো জবাব দেন।

এদিকে চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নিশানসহ তিন আসামি গ্রেপ্তারের আগেই আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কোরবান আলীর ছেলে আলী রেজা রানা।

গত ৫ এপ্রিল বিকেলে আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজ শাহ কলোনি এলাকায় ছেলেকে বাঁচাতে গেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রসুল নিশানের অনুসারী কিশোর গ্যাং সদস্যরা দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলীকে মারধর করে রক্তাক্ত করে।

গত ১০ এপ্রিল বুধবার ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান ডা. কোরবান আলী।

চিকিৎসক কোরবান আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ১২ আসামির নাম উল্লেখ করে গত ৬ এপ্রিল বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় মামলা করেন ছেলে আলী রেজা রানা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাফায়েত, সংগ্রাম ও সাগর নামের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আকবর শাহ থানা পুলিশ।

নগরের বিভিন্ন থানায় গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মারামারির সাতটি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ দন্ত চিকিৎসক হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়।