ডিআরএস না থাকা নিয়ে সমালোচনায় ডাচ ক্রিকেটার

 

সৌম্যর আউটকে ঘিরে মিরপুরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। থার্ড আম্পায়ার দুই দফা কল দিলে সেটি নিয়ে কিছুটা উত্তেজনার তৈরি হয়। কিন্তু ডিআরএস না থাকায় তৃতীয় আম্পায়ারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কেননা বিপিএলে নেই বল ট্র্যাকিং, হক আই, স্নিকো বা ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা। এই অবস্থায় আম্পায়ারের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ কঠিনই! ম্যাচ শেষে খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলতে আসা নেদারল্যান্ডের পেসার পল মেকেরিন বিষয়টি নিয়ে সমালোচনায় মাতলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত সূচির কারণে বিসিবি ডিআরএস ব্যবস্থা করতে পারেনি। তার বিকল্প হিসেবে বিপিএলে রাখা হয়েছে অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (এডিআরএস)। কিন্তু যথাযথ প্রযুক্তি না থাকায় এডিআরএস কোনও কাজেই আসছে না।

ষষ্ঠ ওভারে নাসুমের বলে এলবিডব্লিউর আবেদন হয়। আম্পায়ার আউট দিলে সৌম্য সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন। কিন্তু ডিআরএস না থাকায় বল ব্যাটে নাকি প্যাডে লেগেছে, এটা স্পষ্ট করে বোঝার উপায় নেই। ফলে বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে অনেকটা অনুমানের ভিত্তিতেই থার্ড আম্পায়ার ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে আউট ভেসে উঠলে প্রতিবাদ করেন সৌম্য। সেই প্রতিবাদে আবারও থার্ড আম্পায়ারের কোর্টে ‘বল’ পাঠান ফিল্ড আম্পায়ার। আরও কিছুক্ষণ দেখে সৌম্যকে নটআউট ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে সরব ছিলেন খুলনা টাইগার্সের তামিম ইকবাল। বেশ কিছুক্ষণ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয় খুলনা।

সৌম্যর বিতর্কিত আউট নিয়ে মেকেরিন বলেছেন, ‘প্রথমে তাকে (সৌম্য) আউট দেওয়া হয়। রিভিউ নেওয়ার পরেও আউট দেওয়া হয়। পরে আবার নটআউট! ব্যক্তিগতভাবে আমি নিশ্চিত নই এটি আসলে রিভিউ সিস্টেম কিনা। কারণ এতে হক আই বা অন্যান্য পরিপূর্ণ প্রযুক্তি নেই।’

নেদারল্যান্ডের এই পেসার স্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলে ফেলেন, ‘এখন বিষয়টি এমনই। যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এটি স্বচ্ছতার বেশি সংশয় নিয়ে আসবে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে এমনই মনে হয়। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান উচিত আমাদের।’

তবে দুই পক্ষের উত্তেজনাকর মুহূর্তের বিষয়টি এড়িয়েই গেলেন ডাচ এই ক্রিকেটার। সংবাদ সম্মেলনে মেকেরিন জানিয়েছেন আম্পায়ারদের সঙ্গে কী আলোচনা হচ্ছিল সে বিষয়ে কোনও ধারণা নেই তার, ‘আমি তখন লং অনে ছিলাম। তাই ঠিক জানি না তখন কী কথা হচ্ছিল বা কী হয়েছিল। তবে আমি দেখেছি অন্য ক্রিকেটাররা তেমন খুশি নয়। কারণ সে (সৌম্য) বিপজ্জনক খেলোয়াড়। আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করতে হবে।’

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *