কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

জোরারগঞ্জ থানার মুরাদপুর এলাকায় ছয় বছরের আগে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় মো. শাহজাহানকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরার আদালত এ রায় দেন।

রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালে আসামি উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহজাহান জোরারগঞ্জ থানার কাটাছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মুরাদপুর এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পিপি খন্দকার আরিফুল আলম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালে আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্ম হওয়া শিশুর সব ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। আসামির সম্পত্তি থেকে শিশুর ব্যয়ভার বহন করা হবে। আসামি মো. শাহজাহানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামি শাহজাহান শিশুটির বাবা হিসেবে সমাজে পরিচিত হবেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। পরে ২০১৬ সালের ১৫ মে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ নালিশি মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল জোরালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। পুলিশ অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়।

এর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ট্রাইব্যুনালে না রাজি আবেদন দেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদন গ্রহণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১)/১৩ ধারায় আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানায় ইস্যু করার আদেশ দেন। আসামি ধর্ষণের শিকার নারীর শিশুর পিতৃত্ব অস্বীকার করে। বাদীর বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএনএ পরীক্ষা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ফলে জন্ম গ্রহণকারী শিশু আসামির ঔরস শিশু বলে প্রমাণিত হয়। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৬ জনের সাক্ষ্য শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *